জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের পথেই এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রতিশোধ বা অযথা বিতর্ক নয়—সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের মূল শক্তি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ তুলে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের মানুষের ওপর চাপ কম রাখতে সরকার এখনো দাম বাড়ায়নি। বরং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে সরকার। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে অবদান রাখা জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া জরুরি। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের মূল্যায়ন না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা ভালোভাবে নেবে না। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভক্তি আমাদের দুর্বলতা।” দেশের স্বার্থবিরোধী শক্তিগুলো এখনো সক্রিয়—এমন সতর্কবার্তা দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার ওপর জোর দিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশের বিভিন্ন খাতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতি বছর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণসহ নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এ বছর গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমা রহমান। এছাড়া আরও ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যিক ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে অবদান রাখা কাজী ফজলুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার গ্রহণ করেন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জহুরুল করিমের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়াবিদ জোবেরা রহমান লিনু, সমাজসেবী সাইদুল হক, গবেষক মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশকর্মী আব্দুল মুকিত মজুমদার বাবু।
প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা সেবায় অবদানের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।
