আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুব দ্রুত শপথ সম্পন্ন হবে এবং ১৬ বা ১৭ তারিখের মধ্যে তা শেষ হবে।
তবে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কে নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি প্রেস সচিব। তিনি কেবল জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই শপথের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং প্রধান উপদেষ্টাসহ পুরো টিম মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কাজ করছে। সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বঙ্গভবন প্রস্তুত করার বিষয়টি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তদারকি করছেন।
এর আগে গণভোট ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং একইদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত ২৯৭ আসনের ফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন এবং তিনিই নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। অপরদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে জামায়াতে ইসলামী। ভোটের পরদিন শুক্রবার নির্বাচিত সাংসদদের নামের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
কে পড়াবেন শপথ?
২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বর্তমানে মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুও মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন। ফলে নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তবে সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথ পাঠ করাতে পারেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ বিষয়ে জানান, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ ধারায় বলা আছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অসমর্থ বা অনুপস্থিত থাকলে তিন দিন পর চতুর্থ দিন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন।
এদিকে নতুন সাংসদদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধীদলের সভাকক্ষ, অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।
