বগুড়ার শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে বেপরোয়া বাসের আঘাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মোঃ আহসান হাবীব।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার শেরপুর ফায়ার স্টেশনের গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আহসান হাবীব ওই স্টেশনে সেন্ট্রির দায়িত্বে ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, রাত ২টা ৫ মিনিটে শেরপুর ফায়ার স্টেশনে একটি দুর্ঘটনার খবর আসে। খবর পেয়ে ফায়ার ঘণ্টা বাজান আহসান হাবীব। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট বের হওয়ার সময় মেইন গেট খুলে দেন তিনি। গাড়ি বের হওয়ার জন্য রাস্তায় একটি ট্রাককে থামানোর চেষ্টা করছিলেন আহসান। এ সময় পেছন থেকে একটি বেপরোয়া বাস এসে ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় ট্রাকটি স্টেশনের ভেতরে ঢুকে যায় এবং সেন্ট্রিতে দায়িত্বরত আহসান হাবীব ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ার জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ২টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও বাস দুটিকে জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকের নম্বর ঢাকা মেট্রো ন-১৯-২১৪৯ এবং বাসের নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৭৩০।
একজন নিবেদিতপ্রাণ ফায়ারফাইটার ছিলেন আহসান হাবীব। তিনি ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালের ১১ মে থেকে শেরপুর ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার ধনারুহা গ্রামে। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার মেয়ে মারজিয়া আহসান সিনথী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং ছেলে আব্দুর রাহিম আহসান অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
আহসান হাবীবের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মোঃ মঞ্জিল হক।
মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বগুড়া ফায়ার স্টেশনে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সহকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
