ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও রোগীসহ সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ছাতরা জেলার সিমারিয়া গ্রামের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিমানটি ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাচি থেকে রাজধানী দিল্লি যাচ্ছিল। ছাতরার জেলা শাসক (ডিসি) কীর্তিশ্রী জি জানিয়েছেন, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালনাধীন এই বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাচি বিমানবন্দর থেকে ছেড়েছিল।
উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পরে, সাড়ে ৭টার দিকে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সিমারিয়ার কাছে গভীর বনে আচ্ছাদিত বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় বিধ্বস্ত অবস্থায় এটি পাওয়া যায়। স্থানীয় মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) শুভম খান্ডেলওয়াল জানিয়েছেন, সাতজনের মরদেহই উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে বিকট শব্দে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। রাচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার খারাপ আবহাওয়াকে দুর্ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও পূর্ণ তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান।
যে রোগীর জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া করা হয়েছিল, তিনি হলেন লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার (৪১)। দেহের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তিনি রাচির দেবকমল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার পরিবারের এক সদস্য জানান, সড়ক পথে দীর্ঘ ভ্রমণ তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। রোগীর আত্মীয় বিজয় কুমার জানান, সড়ক পথে দিল্লি নেওয়া হলে রোগীর জীবন সঙ্কটাপন্ন হতে পারে বলে চিকিৎসক সতর্ক করেছিলেন।
