বাংলাদেশের পোশাক খাতের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তারা, এবং তারা সমস্যাগুলো তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, অর্থমন্ত্রী নিজে একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় তিনি শিল্পীদের সমস্যার গভীরতা বুঝতে সক্ষম। বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাক খাত অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে এবং তা রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
নগদ সহায়তা এবং ঋণের সমস্যা
বিজিএমইএ নেতারা জানান, বহু প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন এখনো ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ বাকি থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ সংকটে ভুগছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য তারা দ্রুত অর্থ ছাড় এবং প্রক্রিয়ার সরলীকরণের জন্য সরকারের সহায়তা চান। অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল এবং ব্যাংকের ভূমিকা
বৈঠকে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখার কারণে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া হয় না। ফলে কারখানা সচল থাকে না এবং ঋণ পরিশোধ বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি প্রস্তাব দেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদান করলে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি হবে। অর্থমন্ত্রী এতে একমত পোষণ করেন।
ব্যবসা সহজীকরণ ও নীতি সহায়তা
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যবসা পরিচালনা সহজ এবং খরচ কমানো প্রয়োজন। কাস্টমস, বন্দর এবং প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ করেন।
অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিজিএমইএ একটি সুপারিশমালা জমা দেবে এবং তা সরকারের কাছে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এছাড়া পোশাক খাতকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন।
