পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই জমে উঠেছে অমর একুশে বইমেলা। তবে দ্বিতীয় দিনেও প্রত্যাশিত পাঠকসমাগম দেখা যায়নি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শুক্রবার বিকেলে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্টলে দর্শনার্থী ছিল হাতে গোনা। কোথাও বইয়ের পাতার ঘ্রাণের বদলে শোনা গেছে কাঠ-করাতের শব্দ—এখনো শেষ হয়নি কয়েকটি স্টলের নির্মাণকাজ।
শুরুতেই কেন ধীরগতি?
মেলার প্রধান ভেন্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল সীমিত। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন গেট দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রবেশ করছিলেন কিছু মানুষ। নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও ভেতরে প্রাণচাঞ্চল্যের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিএসসি গেট এলাকায় কিছুটা ভিড় থাকলেও মেলার মূল প্রাঙ্গণে তার প্রভাব তেমন পড়েনি।
অনেক প্রকাশনা সংস্থা এখনো স্টল সাজানোর কাজে ব্যস্ত। আয়োজকদের হিসাবে, পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে। ফলে মেলার পরিবেশে এখনো পূর্ণতা আসেনি। খাবারের স্টলগুলোরও প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ—যা দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় অবস্থান নিরুৎসাহিত করতে পারে।
রমজানের প্রভাব কতটা?
প্রকাশকদের মতে, রোজার মাস হওয়ায় অনেকেই দিনের বেলা বাইরে বের হতে আগ্রহী নন। বিকেল বা সন্ধ্যার পর উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতাও বলছে, রমজানে মেলা সাধারণত রাতের দিকে প্রাণ ফিরে পায়। ফলে প্রাথমিক কম ভিড়কে সাময়িক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশুপ্রহরে প্রাণের স্পন্দন
শুক্রবার ছিল শিশুপ্রহর। সকাল থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিশুরা। পাপেট শো ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাদের উপস্থিতি ছিল উচ্ছ্বসিত। পরিবারসহ অনেকেই সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসেন, যদিও খোলা জায়গায় তীব্র রোদ কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করে।
এবার শিশুচত্বর স্থানান্তর করা হয়েছে উদ্যানের মুক্তমঞ্চসংলগ্ন এলাকায়। লিটলম্যাগ চত্বরের পাশেই নতুন বিন্যাসে সাজানো হয়েছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিটের স্টল। শিশুদের অংশগ্রহণ মেলার পরিবেশে সাময়িক উচ্ছ্বাস যোগ করলেও সার্বিক ভিড়ে তার প্রতিফলন এখনো সীমিত।
সার্বিক পর্যালোচনা
মেলার সময়সূচি অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কার্যক্রম চলবে। তবে শুরুতে প্রস্তুতির ঘাটতি ও রমজানের প্রভাব মিলিয়ে মেলা এখনো পুরোপুরি গতি পায়নি।
তবে ইতিহাস বলছে, একুশে বইমেলা ধীরে শুরু হলেও শেষদিকে পাঠকসমাগমে মুখর হয়ে ওঠে। নতুন বই প্রকাশ, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে সামনের দিনগুলোতে জমে উঠবে বলেই প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন প্রকাশকরা।
সব মিলিয়ে, সূচনায় শ্লথ হলেও বইপ্রেমীদের অপেক্ষায় রয়েছে আরেকটি সম্ভাবনাময় আয়োজন—যার প্রকৃত রূপ ফুটে উঠতে সময়ই শেষ কথা বলবে।
