নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন দল। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এজন্য বিরোধী দলের গঠনমূলক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আসন্ন অধিবেশনের কার্যক্রম, সংসদের কর্মপরিকল্পনা এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদকে বিতর্ক, আলোচনা ও নীতিনির্ধারণের কার্যকর মঞ্চে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরে যেকোনো মতপার্থক্য বা সমস্যা আলোচনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। সংসদীয় নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি জানান, অধিবেশন শুরুর পর সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনি প্রথমে সভাপতিত্ব করবেন। এরপর নিয়ম মেনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের শুরুতেই সরকার ‘প্রাণবন্ত সংসদ’ গড়ার যে বার্তা দিচ্ছে, তা মূলত সংসদে সক্রিয় বিতর্ক ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ইঙ্গিত। তবে বাস্তবে সংসদ কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও সরকারের সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতার ওপর।
যদি বিরোধী দল সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নেয় এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তাহলে নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় সংসদে আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
