দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (BPPOA) সরকারকে সতর্ক করেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পাম্প পরিচালনা বন্ধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বু
বুধবার রাজধানীর সিদ্বেশ্বরী সার্কুলার রোডে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা থাকায় সরকার রেশনিং চালু করেছে। তবে সীমিত সরবরাহ ও সরকারি ঘোষণার মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে জনগণ আতঙ্কিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর ফলে অনেকেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভাঙার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে পাম্প মালিকরা বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে। সুনামগঞ্জে এক কর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। তারা আরও জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় সরকারি নির্দেশনায় ১০ শতাংশ কম সরবরাহ থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ আরও কম, অথচ ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
পাম্প মালিকরা রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার অকটেন সরবরাহের সরকারি সিদ্ধান্তকেও অযৌক্তিক মনে করেন। মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার বিষয়টিও তাদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শহরের বহুতল ভবন ও গ্রামীণ সেচ পাম্পের জন্য আলাদা নির্দেশনা না থাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা সরবরাহ ব্যাহত করছে।
৮ দফা দাবি:
১. প্রতিটি পাম্পে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন।
২. মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহে কোনো বিভাজন না রাখা।
৩. সব পাম্পে সমানভাবে তেল সরবরাহ।
৪. বিপণন কোম্পানিগুলো সরবরাহ বৃদ্ধি করবে।
৫. এজেন্সি, পিক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে সরবরাহ চালু।
৬. মোবাইল কোর্টে সামাজিক হেয়প্রতিপন্নতা বন্ধ।
৭. অবৈধ মজুত ধরা হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
৮. তেল ডিপোগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ।
নাজমুল হক বলেন, “দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পাম্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হবে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করবে। দায়ভার তখন সরকারের।”
রেশনিং ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে সরবরাহ চেইনে বিভ্রাট তৈরি হবে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। পাম্প মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তেলের সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা না থাকলে শুধু যানজট ও অস্থিরতা নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সাধারণ মানুষের অসুবিধাও বাড়বে। দ্রুত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ নীতি প্রয়োগ ছাড়া সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
