জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেভাবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, সেখান থেকে বর্তমান সরকার একটি কার্যকর জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বাজেট সংলাপ: অগ্রাধিকার, ঘাটতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) কনফারেন্স রুমে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তিতুমীর বলেন, আগামী বাজেটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ও সেবার ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সবার জন্য চিকিৎসক নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। শুধু শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে শিশুস্বাস্থ্য, নারীস্বাস্থ্য এবং ফিজিওথেরাপি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোও ঢেলে সাজানো হবে। বর্তমানে দেশের রোগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। আগে সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেশি থাকলেও এখন জীবনধারাজনিত রোগ বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রতিটি জেলায় করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিতুমীর বলেন, “আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে তিনি গণতান্ত্রিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সে লক্ষ্যে ব্যাপকহারে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।”

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাও সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। অতীতের সরকারগুলো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষের নিজস্ব ব্যয়ে চিকিৎসা গ্রহণের হার (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) ক্রমাগত বেড়েছে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। দেশে শয্যা সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের প্রাপ্যতার ঘাটতির কারণে মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

তিতুমীর বলেন, “আমরা আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি আমূল পরিবর্তন আনব।”

অনুষ্ঠানে ইউএপির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলী।

প্যানেল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া।