ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ-তুরস্কের নতুন উদ্যোগ, সই হলো সমঝোতা স্মারক

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রত্নসম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ‘সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষা’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলো।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তুরস্কের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়া দুই দেশের সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রত্নসম্পদ রক্ষা, জাদুঘর পরিচালনা, মহাফেজখানার নথি ও গ্রন্থাগারের সংগ্রহ সংরক্ষণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার ১৯৭০ সালের সনদের আলোকে সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ আমদানি, রপ্তানি ও মালিকানা হস্তান্তর প্রতিরোধে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দুর্যোগজনিত ঝুঁকি হ্রাস এবং সাংস্কৃতিক সম্পদের তালিকাভুক্তি ও নথিভুক্তকরণ কার্যক্রমেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮১ সালের সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০১২ সালের শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, শিল্প, সংবাদমাধ্যম, তথ্য, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ে সহযোগিতা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এই নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে। তুরস্কের আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে সমঝোতা বাস্তবায়নে তুরস্কের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।