দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনের পরিবর্তে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ-পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, সংস্থাটি নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা করে না।
রোববার সচিবালয়ে আলোচিত তিনটি মামলার তদন্তে বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকরা জানতে চান, বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পূর্তির পর পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জনে কতটা সফল হয়েছে এবং টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখিত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে তিনি সন্তোষজনক মনে করেন কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার কাছে ওই প্রতিবেদনটি তখন উপস্থিত ছিল না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ নিয়মিতভাবে মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে। ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করে আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি। সম্প্রতি তিনি যে পরিসংখ্যান দেখেছেন, তাতে ২০২৫ সালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার কমেছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই উন্নতির চিত্র দেখা গেছে। তবে নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের তথ্য সামনে না থাকায় সে বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে জনগণ। তবে সরকার পুলিশকে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের নীতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং অন্যায়ের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করার নীতিতে সরকার বিশ্বাস করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর ফলাফল আরও স্পষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
টিআইবির মূল্যায়ন সরকার গ্রহণ করছে নাকি প্রত্যাখ্যান করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি পরিসংখ্যানই অধিক গ্রহণযোগ্য উৎস।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং সেটিই সরকারের কাছে প্রকৃত তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগে পাঠানো হয় এবং প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে প্রতিবেদন নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত ও মতামত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাই কেবল সংবাদপত্রের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন।
পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমে আর্থিক বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাহিনীর কিছু আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে অবগত। তদন্ত কার্যক্রম, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং টহল কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
