টিআইবির প্রতিবেদনের সমালোচনা ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলল সংস্থা

সরকারের ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে “পেপার কাটিং নির্ভর” বলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, তাদের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য কেবল সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়নি, বরং পুলিশ ও তিনটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে গুণগত ও পরিমাণগত উভয় ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং একাধিক উৎসের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তাই প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র স্পষ্ট এবং তা শুধুমাত্র পত্রিকার কাটিংভিত্তিক নয়।

এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিআইবিকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থা নয় এবং তাদের তথ্য মূলত পত্রিকার কাটিং থেকে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিং থেকে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। জনগণ বিচার করবে।”

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবি জানায়, তারা কোনো তদন্ত সংস্থা নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনবিষয়ক একটি অধিপরামর্শমূলক সংগঠন। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিরা নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রমে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাই গণমাধ্যমভিত্তিক তথ্যকে ঢালাওভাবে অবমূল্যায়ন করা যুক্তিযুক্ত নয়।

টিআইবি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যদিও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের পরই বিতর্ক তৈরি হয়, যার প্রেক্ষিতে টিআইবি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে নতুন করে বিবৃতি দেয়।

পুলিশের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে টিআইবি জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মূল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত না থাকলেও তুলনামূলক বিশ্লেষণের প্রত্যাশা গবেষণার পরিধির বাইরে।