জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের রায় চলতি জুন মাসের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারকাজ শেষ হয়েছে এবং মামলাগুলো এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) অবস্থায় রয়েছে। ১ জুলাই থেকে ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হওয়ায় তার আগেই রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার ঘটনাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের দাবি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশন জানায়, ইনু ও হানিফের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় ১৭ জুলাই, ২৭ জুলাই ও ৫ আগস্টের ঘটনায় আলাদা অভিযোগ আনা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয়ভাবে সহিংসতা সংঘটিত হয়, যেখানে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের সহায়তায় এবং রাজনৈতিক নির্দেশনার ভিত্তিতে এসব ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে মামলার কার্যক্রমে জানা যায়, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গুলির নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ।
হানিফের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তার দিকনির্দেশনা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। তার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক ঘটনার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাগুলো সিএভি হিসেবে রায়ের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। চলতি মাসেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণার বিষয়ে এখন অপেক্ষা করছে প্রসিকিউশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল বাৎসরিক ছুটিতে থাকবে। তাই ছুটির আগেই রায় প্রকাশের বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে বিচারকাজ সম্পন্ন হয় এবং এখন রায়ের অপেক্ষা চলছে।
