রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া গৃহবধূ জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭) এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদাতা।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন মো. সজীব আলম (২৯), মো. রিপন মিয়া (৪২) ও মো. ফারুক খান (৫০)। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ডাকাত একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে। পরে তারা নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মো. সজীব আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রিপনের বাসার ওয়ারড্রবের ড্রয়ার থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ফারুক খানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ভাড়া করা বাসার শয়নকক্ষ থেকে আরও ১ লাখ টাকা ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, একই ভবনের সপ্তম তলায় বসবাসকারী জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। বুধবার ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ২০ হাজার টাকা।
পুলিশ আরও জানায়, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগী পরিবারের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে ওই বাসায় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার থাকার বিষয়ে তিনি জানতেন। পরে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে মিলে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনের নিচে গ্রহণ করেন এবং ডাকাতির পর তাদের নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ঘটনায় মোট আটজন জড়িত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
