নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় থাকছেন দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তারাও চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা কোনো আদেশ পরে জারি করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পান। তাই তারাও নবম জাতীয় পে স্কেলের আওতায় থাকবেন।

এর আগে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এতে অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে স্কেল অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, সে বিষয়ে তখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এর পরদিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন। বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।

এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেতন পান। সংশ্লিষ্ট এমপিও নীতিমালায়ও জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এবং সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলকে বেতন স্কেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমপিও ব্যবস্থার আওতায় থাকা এসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের শতভাগ সরকার আর্থিক অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতাসহ নির্দিষ্ট কিছু ভাতা দেওয়া হয়। গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তারা মাসে এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া পেতেন।

দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

নতুন বেতন কাঠামোয় বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও বর্তমানে যে গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই গ্রেড অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাবেন। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন, পদ ও বিষয়ের ভিত্তিতে তাদের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণে পার্থক্য থাকবে।

নতুন পে স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডের চাকরিজীবীরা চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ তৃতীয় ধাপে তারা নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বর্ধিত মূল বেতনের পুরো সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বর্ধিত মূল বেতনও তিন ধাপে কার্যকর হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভাতাতেও পরিবর্তন আসবে। তবে তাদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আলাদা আদেশ জারির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি।