নাগরিক দায়িত্ব, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রচারণা চালাবে তথ্য মন্ত্রণালয়
সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। জনজীবনে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও কনটেন্ট বা রিলস তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন’ (আইসিএফ)-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তৃত ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দায়িত্বশীল আচরণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, নারীর প্রতি সম্মান, প্রবীণদের মর্যাদা প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি করা হবে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক চর্চা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের পাশাপাশি প্রাণী ও পরিবেশের প্রতিও সহমর্মিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধ এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেও মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী নাগরিক জীবনের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের দিকেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সড়ক ব্যবহারে শৃঙ্খলা মেনে চলা, জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখা এবং আবর্জনা যথাস্থানে ফেলার মতো বিষয়গুলো ছোটবেলা থেকেই শেখানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র থুথু ফেলা কিংবা ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপের মতো অভ্যাস পরিহার করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তার মতে, বয়োজ্যেষ্ঠদের অসম্মান বা অপমানকে আধুনিকতা হিসেবে উপস্থাপনের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা সামাজিকভাবে ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, আচরণগত ও জীবনযাত্রাগত নানা পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অল্প বয়সেই বিভিন্ন ধরনের জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা বাড়ছে। এ বাস্তবতায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত হাঁটা ও শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সচেতন জীবনধারা অনেক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইসিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নাগরিক আচরণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক জীবনধারা নিয়ে নির্মিত দুটি তথ্যভিত্তিক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
