জনগণের আন্দোলনই বদলেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ: তথ্যমন্ত্রী

    • ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনকে গণতন্ত্রের সংগ্রামের দুই ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণের আন্দোলন বারবার পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দুটি ঘটনা জনগণের শক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘তারেক রহমানের ভাবনা : আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘৮০-৯০ দশকের ছাত্র মুভমেন্ট’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষা। জনগণের ইচ্ছার বাইরে কোনো কৃত্রিম বয়ান বা বিকল্প ব্যাখ্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোও জনগণের সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমেই এসেছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন একই ধারার অংশ। এই দুটি আন্দোলনই প্রমাণ করেছে যে জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যারা জনগণের রায় বা নির্বাচনকে ভয় পায়, তারাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশের মানুষ সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

১৯৯০ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। এর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি হয় এবং জনগণের ভোটে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরতে হলে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইতিহাসের একটি অংশকে সামনে এনে অন্য অংশকে আড়াল করলে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পায় না।

বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্যে একটি ধারাবাহিকতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ৮০ ও ৯০ দশকের ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এ সময় তিনি ওই সময়ের ছাত্রনেতাদের নিয়ে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এমন আয়োজন অতীতের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে ৮০ ও ৯০ দশকের ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।