- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারণে জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, ইতিহাস এবং প্রত্যাশাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েই একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব।
শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের সংগঠন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণের কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত সব ধরনের কৃত্রিম বয়ান ও বিভ্রান্তিকে অতিক্রম করবে। জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং নিজস্ব মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। এ দেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি খুঁজতে হলে দেশের নিজস্ব ইতিহাস ও বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা দেশের মানুষের স্বকীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনের রূপ দিয়েছে। ভাষা, সংস্কৃতি, নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই দর্শন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশের স্বার্থই হতে হবে কেন্দ্রীয় বিষয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলা দরকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতিসংঘভিত্তিক বহুপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রচিন্তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন।
