নেপাল থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা আপাতত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে এই অনুমোদন স্থগিত করেছে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ)। এর ফলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মোট সরবরাহ ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার উদ্যোগ আটকে গেছে।
নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের বরাতে রোববার (১৪ জুন) ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বের পরিকল্পনা ও বর্তমান বাস্তবতা
বর্তমানে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা ছিল অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট যোগ করে মোট সরবরাহ ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা। তবে ভারতের বিদ্যুৎ সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) জানায়, ভারত–বাংলাদেশের ১০০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।
এর ফলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নতুন অনুমোদন না আসায় সম্প্রসারণ কার্যক্রম থেমে গেছে।
নেপাল কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা
নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ)-এর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থার্কা বাহাদুর থাপা জানান, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি এখনো পূর্বের মতো ৪০ মেগাওয়াটেই সীমিত থাকবে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট যুক্ত করতে হলে নতুন বা সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) অনুমোদন প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
চুক্তি ও সিদ্ধান্ত
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে আরও ২০ মেগাওয়াট রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নেপাল-ভারত জেএসসি বৈঠকে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ, বিপিডিবি এবং এনভিভিএন-এর মধ্যে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম চালু থাকে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের উৎস ও রুট
বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিটের মূল্য নির্ধারিত রয়েছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট।
এই বিদ্যুৎ নেপাল থেকে ঢালকেবার–মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন হয়ে ভারতে প্রবেশ করে, এরপর বহরমপুর–ভেড়ামারা লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছায়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট যুক্ত করতে হলে নেপাল-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) এবং যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) নতুন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এসব বৈঠকের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
রপ্তানি পরিসংখ্যান
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন রুপির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
