বাংলাদেশে ই-বর্জ্য (ইলেকট্রনিক বর্জ্য) ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক বিধিমালা থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পুনরুদ্ধারযোগ্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বছরে উৎপাদিত প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্যের ১০ শতাংশেরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রতিবছর প্রায় ২০০ থেকে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মূল্যমানের সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার রাজধানীতে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনসের (এপিসি) সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ভয়েস আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক অ্যাডভোকেসি সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় উপস্থাপিত ভয়েসের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবে কার্যকর ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেনি। জরিপে অংশ নেওয়া সব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হলেও মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের টেক-ব্যাক ব্যবস্থা রয়েছে। একই সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে। এছাড়া গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই মেয়াদোত্তীর্ণ ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
ভয়েসের পক্ষে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করেন বন্ধন দাস। তিনি বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরি করলেও বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশগত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না।
ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। তবে কেবল বিধিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সদস্য আমিনুর রসুল বলেন, ই-বর্জ্য শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, এটি সম্পদ ব্যবস্থাপনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার ও পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশ উইসো সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা আক্তার-উল-আলম বলেন, দেশে ব্যবহৃত অনেক ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যবান উপাদান বিদেশে পুনরুদ্ধার ও পরিশোধিত হয়। এতে অর্থনৈতিক সুবিধা অন্য দেশে চলে যায়, অথচ পরিবেশগত ঝুঁকি ও ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয় বাংলাদেশকে।
সভায় বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার, উৎপাদকদের সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতা (Extended Producer Responsibility) নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব সার্কুলার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
