জুলাই আন্দোলনে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ (মঙ্গলবার) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে রায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
মামলায় একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় (সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি)সহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৪ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
চলতি বছরের ১১ মার্চ ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য জমা দিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’, ‘বানোয়াট’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, অভিযোগে উল্লেখিত কোনো ঘটনার সঙ্গে তার বা জাসদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে ইনু আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নির্দেশনা প্রদান এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বলেন, প্রসিকিউশন কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথিত ফোনালাপের কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। এছাড়া অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাক্রম ও সময়কালেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে দুইজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া প্রসিকিউশন ২০টি দলিল এবং পাঁচটি বস্তুগত আলামত আদালতে উপস্থাপন করেছে।
ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ
মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ১৪ দলের বৈঠকে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে প্ররোচনা, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ, আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র, টেলিভিশনে সহিংসতাকে সমর্থন করে বক্তব্য প্রদান, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ, কারফিউ ও দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্তে সমর্থন এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ।
