আজ শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী

  • কেন্দ্রে নিরাপত্তায় পুলিশের দেহে থাকবে ধারণক্যামেরা

ঢাকা: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রথম দিন দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

সব শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কেন্দ্রগুলোতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো পরীক্ষার্থী এলে তার রোল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন খাতায় সংরক্ষণ করে বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। ৪ হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী এক হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন।

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তারা দুই হাজার ৭০৫টি মাদরাসা থেকে ৪৬১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৬ হাজার ৮০৩ জন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স এবং বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী। এক হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে এক হাজার ৬৪৭ জন।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২৫ জুলাই, ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২২ জুলাই এবং বিএমটির তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১ আগস্ট শেষ হবে।

এবার সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী বছর থেকে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও অভিন্ন বিষয়ে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা ও নজরদারিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম কক্ষ পরিদর্শক রাখা যাবে না। পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা বেঞ্চে দুইজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই করা হবে। নির্ধারিত সংকেত পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে এবার নতুন উদ্যোগ হিসেবে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দেহে ধারণক্যামেরা ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সংশোধিত সরকারি পরীক্ষা আইন কার্যকর হওয়ায় এবার থেকে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা শুধু উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ নয়, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নেরও সুযোগ পাবেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি বিষয়ের জন্য তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও দুর্যোগ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পর্যবেক্ষক ছাড়া অন্য কারও অবস্থানের অনুমতি থাকবে না। পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্রের শৌচাগার তল্লাশি করে নকলের উপকরণ পাওয়া গেলে তা জব্দ করা হবে। কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কারও অপ্রয়োজনীয় জটলা এড়াতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গত বছরের মতো পরীক্ষার ফাঁকে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যাবে।