প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মো. আসিফ আহমেদও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করা হয় এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে মো. মেহতাব কায়েসকে ৯ জুলাই থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা (সাবসিসটেন্স অ্যালাউন্স) পাবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল একটি ওয়েব লিংকের মাধ্যমে দেখা যায়। পরে ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং ফল প্রকাশের গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুত করা হয়। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েব লিংক তৈরির দায়িত্বে ছিলেন মো. মেহতাব কায়েস। তাকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ফলাফল লাইভ সার্ভার বা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করেই ফলাফল লাইভ সার্ভারে আপলোড করা হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফল দেখতে সক্ষম হন। পরে বিষয়টি নজরে এলে ফলাফল ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লাইভ সার্ভারে ফল আপলোডের সময় অনুসরণীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে মানা হয়নি। এ ত্রুটির কারণেই ফলাফল আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই জনসাধারণের নাগালে চলে আসে।
ঘটনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সই করা এক চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার সার্বিক কারণ উদ্ঘাটনে ডিপিই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
