- মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা ও আনন্দময় শিক্ষার ওপর জোর সরকারের
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ চালু করা হবে। সরকারের লক্ষ্য মূল্যবোধনির্ভর, দক্ষতা-কেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি একই স্তর থেকে একটি তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও শারীরিক বিকাশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের বাধ্যতামূলক অংশ করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা চাপের মধ্যে নয়, বরং আনন্দ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে শিখবে। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক করা এবং শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।
শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিন্ন স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, স্কুলব্যাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষকদের আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তাদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসেরও কম সময়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য ৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান নিশ্চিত করেছে। এই অর্থ শিক্ষা সংস্কার এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক এবং দক্ষ বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময়োপযোগী শিক্ষা সংস্কার অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
