অর্থ পাচার ঠেকানো গেলে কর কমিয়েও দেশ চালানো সম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করা গেলে দেশ পরিচালনায় সরকারের অর্থের কোনো সংকট থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, বাজেটে কর কমানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় এ মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এ তথ্য জানান। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী ‘মানুষের বাজেট’, ‘জনবান্ধব বাজেট’ এবং জনগণের কল্যাণের বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন, বিভিন্ন খাতে কর কমানো হলে সরকার কীভাবে ব্যয় নির্বাহ করবে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়। সেই অর্থ পাচার বন্ধ করা গেলে সরকারের অর্থসংকট থাকবে না।

নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, বাজেট ঘোষণার আগে কিংবা পরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। খাদ্যদ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় ৬৩টি পণ্যে কর বাড়ানো হয়নি এবং কয়েকটি পণ্যে কর কমানো হয়েছে। যেসব পণ্যে কর কমেছে, সেগুলোর দামও কমা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি নির্দিষ্ট পণ্যে কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেটিও বিবেচনায় নিয়েছেন।

সংসদে সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্কে ‘কোনো খেলা নেই’

সংবাদ সম্মেলনে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ‘ফ্রেন্ডলি গেম’ বা সমঝোতার রাজনীতি চলছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি দল ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সম্পর্ককে খেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, কেউ যদি এ ধরনের মন্তব্য করে থাকেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। সরকার ও বিরোধী দল জাতীয় স্বার্থে যৌক্তিক বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে, আবার প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনাও করবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক।

চিফ হুইপের ভাষায়, বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের বিরোধিতা করা নয়। তারা যৌক্তিক বিষয়ে সরকারের পাশে থাকবে এবং যেখানে প্রয়োজন, সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সংশোধনের সুযোগ করে দেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চায়। এবারের বাজেট অধিবেশনে দুই পক্ষের সহযোগিতা ইতিবাচক ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে যা বললেন চিফ হুইপ

সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল প্রতিনিধি না দিলে কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তবে সংবিধান সংশোধনের কাজ সংসদের ভেতরেই সম্পন্ন হবে।

‘পুশ ইন’ ইস্যু জাতীয় সমস্যা

ভারতের ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে বিরোধী দলের আনা আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অনুরোধ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা এবং অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশে এসে বসবাস করুক, তা কেউ চায় না।

বিল উত্থাপনে বিলম্বের ব্যাখ্যা

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিল দেরিতে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, চলতি অধিবেশনে কয়েকটি বিল সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সদস্যদের বিলগুলো পড়া, বিশ্লেষণ ও আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দল তাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মোট সময়ের ২৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় ব্যবহার করেছে। অনেক বিরোধী দলীয় সদস্য ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য দিয়েছেন।

সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়ে বক্তব্য

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনে বিলম্বের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে এসব কমিটি গঠন করার বিধান রয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় অধিবেশন চলছে, তাই নির্ধারিত সময় এখনো শেষ হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, কোনো সংসদ সদস্য নিজেকে অপমানিত মনে করে অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, কোনো সদস্যই যাতে অপমানিত বোধ না করেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করা হবে।