২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার সারাদেশে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। যদিও এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার লক্ষ্য ছিল, সব কোটা পূরণ হয়নি।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় থেকে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করে। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ বৃত্তি লাভ করেছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) পাওয়া শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ২২৫ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা করে পাবে।
প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির অর্থ পেয়ে থাকে। এরপর অষ্টম শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির সুবিধা অব্যাহত থাকে।
যদিও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, তবে বৃত্তির অর্থ প্রদান করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর এই বৃত্তির অর্থ পেতে শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানান, ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বৃত্তির অর্থ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এককালীন ৪৫০ টাকা এবং মাসে ৬০০ টাকা পাবে। একইভাবে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের এককালীন ভাতা ৪৫০ টাকা এবং মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকায় উন্নীত হবে।
তিনি আরও বলেন, বৃত্তির মোট সংখ্যা আগের মতোই ৮২ হাজার ৫০০টি থাকবে, তবে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, একসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। পরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সেই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালে আবার বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ফল প্রকাশে নানা অসংগতি দেখা দেয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতার কারণে গত বছরের পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও চলতি বছরের এপ্রিলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার ফলই আজ প্রকাশ করা হয়েছে।
