অবৈধ হর্নের বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান

রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন ও অনুমোদনবিহীন হুটার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে সড়কে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী সরঞ্জাম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন তল্লাশি করে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন, অনুমোদনহীন হুটার এবং অতিরিক্ত শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।

অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যানবাহনের চালক ও মালিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শব্দদূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের জন্যও একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর সড়কগুলোতে অহেতুক হর্ন বাজানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের মানসিক চাপ, শ্রবণশক্তির ক্ষতি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে জনবান্ধব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সপ্তাহব্যাপী শব্দদূষণবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যানবাহন তল্লাশি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন ও উচ্চ শব্দের হুটার ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহনের পরিচয় ব্যবহার বা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

অভিযানের সময় ট্রাফিক কর্মকর্তারা চালকদের সঙ্গে কথা বলে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন এবং সড়কে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীতে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে শব্দদূষণবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।