জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আসিফ হাসানের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে সরকারি সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জনকল্যাণমূলক স্থাপনার নামকরণের দাবি উঠেছে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের অস্কারপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় এ দাবি জানান বক্তারা।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালীগঞ্জ উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে শহীদ আসিফ হাসানের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাসার।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, শহীদ আসিফ হাসানের আত্মত্যাগ জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে তাঁর দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে, সে জন্য তাঁর স্মৃতি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “এলাকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সড়ক, চত্বর কিংবা প্রধান সড়কের নাম শহীদ আসিফ হাসানের নামে নামকরণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, লাইব্রেরি বা জনকল্যাণমূলক স্থাপনা তাঁর নামে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আসিফ হাসানসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সভা শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসে আত্মত্যাগের যে অধ্যায় শহীদরা রচনা করে গেছেন, তা সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে শহীদ আসিফ হাসানের নামে কোনো স্থাপনার নামকরণ তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আসিফ হাসান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময়ে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
