ঢাকার খিলক্ষেতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন।
খিলক্ষেত থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সৃজন (২৬)। তিনি খিলক্ষেত থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি মস্তুল বেলতলা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মস্তুল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে রুজু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খিলক্ষেত থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, থানার দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় ওসি মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ওসি আরও জানান, মাদক ও ছিনতাই দমনে খিলক্ষেত থানায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমটি নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তার ভাষ্য, “অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের বাইরে কাউকে বিবেচনা করা হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য বা প্রমাণ থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশের কোনো ত্রুটি বা অবহেলা চোখে পড়লেও তা অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা গেছে, খিলক্ষেত বাজার, কুড়াতলী, নামাপাড়া, জোয়ার সাহারা, বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা, মস্তুল ও তলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০ ফিট সড়ক, নিকুঞ্জ-১ ও নিকুঞ্জ-২, কুড়িল বিশ্বরোডের অংশবিশেষ এবং কাওলা এলাকায়ও পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত খিলক্ষেত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের চলমান কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
