জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন ১ শতাংশের নিচে, ১০ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় শূন্য

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সময়ে স্বাস্থ্য খাতসহ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থই খরচ করতে পারেনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলে উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ১২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সেই হিসাবে এক মাসে মোট বরাদ্দের শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়েও এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে ওই সময় ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে বাস্তবায়ন একই থাকলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আগের বছরের তুলনায় ৪৭৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে ১ হাজার ১৯৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা মিলে এডিপির ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। বাস্তবায়নের হার ছিল ৫২ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে এডিপি বাস্তবায়নের সর্বনিম্ন হার।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। ওই মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।

অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার সাধারণত কম থাকে। বছরের শুরুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ, দরপত্র প্রক্রিয়া, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে প্রথম দিকে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি তুলনামূলক ধীর থাকে। পরবর্তী মাসগুলোতে প্রকল্পের কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়তে থাকে।

তবে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ের তথ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো ব্যয় না হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগসহ মোট ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের এডিপি বরাদ্দ থেকে জুলাইয়ে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি।

চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য এডিপিতে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে দুই বিভাগ থেকেই কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

একইভাবে সেতু বিভাগের ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব বরাদ্দ থেকেও জুলাইয়ে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জন্য ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৫৬ কোটি টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮৫ কোটি টাকা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগও অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ খরচ করতে পারেনি।

অন্যদিকে জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিভাগটি ৯৫২ কোটি টাকা খরচ করেছে, যা তার মোট বরাদ্দের ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর পরেই রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। জুলাইয়ে এ বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৬৫ কোটি টাকা। এ বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ১৬ শতাংশ।