- নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতান্ত্রিক সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও নীতিনির্ধারণের আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় তাদের অংশগ্রহণ এখনও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।
শনিবার ঢাকার ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘Joining Youth in Effective Engagement in Reform Agendas in Bangladesh (JoYEE)’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সংলাপে এসব কথা উঠে আসে।
সংলাপে তরুণদের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও উদ্বেগের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
লেখক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং অর্থবহভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা কঠিন। তরুণদের মতামত ও প্রত্যাশা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী তরুণদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তরুণ নারীদের যেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিরাপদে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদ আসলাম বেগ সায়েম রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সংলাপের সঞ্চালক ও ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণকে শুধু মতামত নেওয়া কিংবা প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করতে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনায় তরুণ প্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য, অ্যাক্টিভিস্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের নিয়মিত ও ধারাবাহিক সংলাপের ব্যবস্থা করা হলে তাদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগগুলো নীতিনির্ধারণে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।
