- নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্লোগানের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে আয়োজক ও কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে ধানমণ্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। আয়োজকদের একজন ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী।
সমাবেশে বক্তব্যে কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। নিহতদের ছবি তার মনে বারবার ভেসে উঠছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষ কী শিক্ষা নিচ্ছে এবং সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও দেশের মূল্যবোধকে রক্ষা করতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। কর্মসূচি আয়োজনের আগে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ফোনকল পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এরপর সেখানে থাকা তিন ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করেন। তাদের একজন নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হওয়ায় সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
সমাবেশে উপস্থিত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। কয়েকজনের বক্তব্যের পর কামাল পাশা চৌধুরী স্লোগান দিলে কয়েকজন তরুণ তার প্রতিবাদ করেন।
তার ভাষ্য, সামাজিক কর্মসূচিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনার পর কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা যখন সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন কয়েকজন এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়। কাউকে আটক করার কথা তিনি শোনেননি বলেও জানান।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে সচেতন প্রকৌশলী সমাজের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। সেখানে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ কাছাকাছি অবস্থান করছিল। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ সময় কয়েকজন সেখান থেকে চলে যান। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
