- নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে চালু করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যক্রমে আনতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার সকালে তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় নিয়ে টার্মিনালের ‘সফট ওপেনিং’-এর প্রস্তুতি চলছে। ওই সময় থেকে সীমিত পরিসরে টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে আরও সময় লাগবে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে তৃতীয় টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। টার্মিনালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও ছিল না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় টার্মিনালের ‘সফট ওপেনিং’ উদ্বোধন করেছিলেন। ওই দিন নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যায়।
নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি দ্বিতীয় একজন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। নির্দিষ্টসংখ্যক ‘কী পারফরম্যান্স ইনডিকেটর’ বা কেপিআইয়ের মাধ্যমে সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমানোর বিষয়েও কাজ চলছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে যাত্রীর প্রথম ব্যাগেজ হাতে পৌঁছাতে প্রায় ১৮ মিনিট সময় লাগছে। এই সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া তৃতীয় টার্মিনালে উড়োজাহাজ অবতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়েও নতুন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানির পাওয়ার কথা ছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তিনতলা এই টার্মিনালের বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী ধারণের সক্ষমতা রয়েছে। এর মোট ফ্লোর স্পেস প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার।
নকশা ও স্থাপত্যে বাংলাদেশের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে টার্মিনালটিতে। দেয়াল ও ছাদে ষড়ঋতুর ছয়টি রঙের বিশেষ টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পথে জাতীয় ফুল শাপলা ও জলে ভাসা পদ্মের নকশাও রাখা হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল এবং ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সুবিধাসহ অ্যাপ্রোন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৯টি উড়োজাহাজ পার্ক করার সুযোগ রয়েছে।
নতুন টার্মিনালকে সড়ক, রেল ও অন্যান্য পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। হাইওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেলপথ ব্যবহার করে যাত্রীরা টার্মিনালে যাতায়াত করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ওই এলাকার মেট্রোরেল সংযোগও টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
যাত্রীদের জন্য টার্মিনালে ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি রাখার সক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিলেভেল কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে।
এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ বর্গমিটার আয়তনের কাস্টমস হল, ছয়টি কাস্টমস চ্যানেল, ১৬টি লাগেজ বেল্ট এবং ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার থাকছে। এর মধ্যে ১৫টি কাউন্টার হবে স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন সুবিধাসম্পন্ন।
ইমিগ্রেশনের জন্য থাকছে মোট ১২৮টি কাউন্টার। এর মধ্যে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য ৬৬টি, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য ৫৯টি এবং ভিভিআইপি যাত্রীদের জন্য তিনটি কাউন্টার থাকবে। ইমিগ্রেশনে ১৫টি স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারও থাকবে।
তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জাপানি কনসোর্টিয়াম ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
