- নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তি মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবার প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে। ফলে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সময়ের দাবি।
সাইবার অপরাধের তদন্তে দক্ষতা অর্জনকে আধুনিক পুলিশিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টিওটি কোর্সে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কার্যকরভাবে মাঠ পর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারলে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তে দক্ষ কর্মকর্তার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং ও পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান আইজিপি। একই সঙ্গে নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল সময়ের সঙ্গে হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মো. ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।
স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণের রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের অনুষদ সদস্য ও রিসোর্স পারসনরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ১০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
