মুগদা হাসপাতালে অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় অনিয়ম, বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো এবং হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি ল্যাবের প্রতিনিধিদের রক্ত সংগ্রহের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘হয় আমি থাকব, আর না হয় হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি থাকবে—দুইটার একটা হবে।’

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী ডেঙ্গু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র নিজে যাচাই করেন। এতে তিনি দেখতে পান, সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের অধিকাংশ পরীক্ষাই বাইরে থেকে করানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি রোগীদের ইনভেস্টিগেশন পেপার দেখেছি, যার সবগুলোই বাইরে থেকে করানো। হাসপাতালের ভেতরেই পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, সরকার এজন্য অর্থ দিচ্ছে। অথচ রোগীদের কেন পকেটের টাকা খরচ করে বাইরে যেতে হবে?’

হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন বেসরকারি ল্যাবের প্রতিনিধিদের রক্ত সংগ্রহের বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আসে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে বাইরের বিভিন্ন ল্যাবের প্রতিনিধিরা ফেরিওয়ালার মতো রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অফকোর্স (অবশ্যই) দায় আছে। দিনের বেলা বাইরে থেকে এসে ফেরিওয়ালার মতো রক্ত নিয়ে যায়, এটা কি আমাকে প্রশ্ন করা লাগে? কর্তৃপক্ষ এর জন্য সরাসরি দায়ী।’

অনিয়মের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমি কি করতে যাচ্ছি, জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি (অপেক্ষা করুন)।’

এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহারের বিষয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাইরে সব জায়গায় মশারি দেখছি, কিন্তু এখানে রোগীদের মধ্যে মশারির ব্যবহার নেই বললেই চলে। মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।’

ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মশারি ব্যবহার না করলে একজন রোগী থেকে মশার মাধ্যমে অন্য সুস্থ মানুষও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় তিন মাস আগে থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পিরোজপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় লার্ভা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও পানি জমে থাকায় মশার বিস্তার রোধ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি রোগীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের সব অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।