- নিজস্ব প্রতিবেদক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ কিংবা দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দলটির কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ কিংবা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আইনগত সুযোগ নেই।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন। তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমরা বিব্রত বোধ করি।’
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ করা কিংবা দলীয় কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই। কেউ আইন অমান্য করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের শাসনামলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, যেকোনো মূল্যে এসব নির্বাচন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।’ এ লক্ষ্যে বাজেটে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংশোধিত নির্বাচনী আইনের বিষয়টি তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। প্রার্থীরা সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। ফলে নির্বাচন দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখতে বিএনপি একক প্রার্থী সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। সমঝোতা সম্ভব না হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বগুড়ার চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ এখনও ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বগুড়াবাসী ইপিজেড, বিমানবন্দর এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। পরে মোকামতলা উপজেলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় শিবগঞ্জ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য দুটি স্কুল বাসও হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
