দোকানের মালিকানা নিয়ে জাবিতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চত্বর ও নজরুল হলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই হলের অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা কয়েকটি দোকানের মালিকানা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দোকানগুলো আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের নামে বরাদ্দ থাকলেও নজরুল হল চালু হওয়ার পর ওই হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আগের রাতে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁদের হলের সামনের কয়েকটি দোকানে তালা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার দুপুরের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী দোকানগুলোর এলাকায় অবস্থান নেন। পরে নজরুল হলের একদল শিক্ষার্থী সেখানে গেলে প্রথমে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

যেভাবে শুরু দোকান নিয়ে বিরোধ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা হয়। হলটি চালুর পর এর আশপাশে কয়েকটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন সময়ে ওই এলাকায় অন্তত ১৫টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব দোকান বরাদ্দে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছিল।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল চালু হয়। নতুন হলটির সামনে আগে থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের নামে বরাদ্দ থাকা কয়েকটি দোকান রয়েছে। দোকানগুলো নিজেদের হলের সামনে হওয়ায় নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা সেগুলোর মালিকানা নিয়ে আপত্তি তোলেন। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা পুরোনো বরাদ্দের ভিত্তিতে দোকানগুলোর ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছিলেন।

দোকানের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। একটি সূত্রে চারটি দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও অন্য সূত্রে ছয়টি দোকানের কথা বলা হয়েছে।

আহত ৯ শিক্ষার্থী

সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন আলী আরাফাত (পাবলিক হেলথ, ব্যাচ-৫৩), আদনান আল মাহাদী (অর্থনীতি, ব্যাচ-৫২), রেদোয়ান (ভূগোল, ব্যাচ-৫২), এস এম শিমুল (জার্নালিজম, ব্যাচ-৫২), কাজী রোকনুজ্জামান (আইন ও বিচার, ব্যাচ-৫৫), রোহান (পরিবেশ বিজ্ঞান, ব্যাচ-৫২), স্বাধীন (পরিবেশ বিজ্ঞান, ব্যাচ-৫৫), রাবিদ (অর্থনীতি, ব্যাচ-৫২) ও আরাফাত (বিএমবি, ব্যাচ-৫৫)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে জানান, নয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, দোকান নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের বিরোধের জেরে নয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। এরপর দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দোকান নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।