রাঙামাটিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্যের অভিযোগে ৩৬ ঘণ্টার হরতালের ডাক

রাঙামাটি জেলা পরিষদে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে একদল চাকরিপ্রার্থী বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতালের ডাক দিয়েছে।

বুধবার বিকালে শহরের বনরুপায় একটি রেস্তোরাঁয় ‘কোটা বিরোধী ঐক্যজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকের’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী ইব্রাহিম রুবেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতা রাকিব হাসান, শিক্ষার্থী নুরুল আলম, রুবেল হোসেন, রেজাউল করিম রাজু ও ইমাম হোছাইন।

তাদের অভিযোগ, জেলা পরিষদে কোটা বৈষম্য বাদ দিয়ে সঠিকভাবে নিয়োগ প্রদানের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিলেও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ কোনো সমাধান দেয়নি। এ কারণে তারা বাধ্য হয়ে হরতালের কর্মসূচি দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কোটার উল্লেখ নেই এবং শূন্য পদের সংখ্যাও স্পষ্ট নয়। সরকার নির্ধারিত সাত শতাংশ কোটার বিধান উপেক্ষা করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ৭০ শতাংশ ‘উপজাতি’ ও ৩০ শতাংশ বাঙালি কোটা অনুসারে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে, যা তাদের কাছে দুঃখজনক ও বৈষম্যমূলক।

তাদের দাবি, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কোটা প্রথার নামে বৈষম্য ও ‘মেধা হত্যার’ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই তারা মেনে নেবেন না।

২০ ও ২১ নভেম্বর হরতাল চলাকালে জেলা শহরের সব সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা। তবে জরুরি সেবার যানবাহন এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলেও তারা জানান।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, “হরতাল দেওয়া হয়েছে শুনেছি। তারা তাদের কাজ করবে, আমরা আমাদের মত কাজ চালিয়ে যাব।”

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের ২৮টি বিভাগ জেলা পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগও রয়েছে। আগামী ২১ নভেম্বর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যাতে অংশ নেবে প্রায় সাত হাজার আবেদনকারী।