ঘোড়ার মাংস বিক্রির চক্র ভেঙে দিল পুলিশ: গজারিয়ায় মূলহোতা রাজিব গ্রেপ্তার, ধরা পড়ল ৫ সদস্য

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চাঞ্চল্যকর ঘোড়ার মাংস কাণ্ডে অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার গ্রেপ্তার হয়েছে চক্রটির মূলহোতা রাজিব শিকদার। পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার ও জীবিত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনার পর তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। এর আগে একই ঘটনায় আরও চারজনকে আটক করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এই চক্রের পাঁচ সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজিব শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩৬ বছর বয়সী রাজিব স্থানীয় ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত বাবুল শিকদারের ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত ৮ এপ্রিল ভোরে। ওইদিন আনারপুরা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা একাধিক ঘোড়ার মাংস ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত রাজিব ও তার সহযোগী তিতাসসহ কয়েকজন একটি পিকআপ ভ্যানে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ঘটনার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর রাজিব আবার এলাকায় ফিরে আসে। স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্তির কারণে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এলাকায় আসে। এ সুযোগেই পুলিশ তাকে শনাক্ত করে এবং অভিযান চালিয়ে আটক করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার গজারিয়া ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আটক ব্যক্তিরা হলেন—মাদারীপুরের কালকিনির রুবেল (৩৯), নওগাঁর সৌরভ (২১), গাজীপুরের টঙ্গীর সোহেল গাজী (২১) এবং ইয়াসিন আরাফাত (২১)।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে মোট ১০টি ঘোড়া ছিল। এর মধ্যে ৯টি জবাই করা হয়েছিল এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, এই চক্রটি মূলত রাজিব ও তিতাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। রাজিবকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি প্রধান সহযোগী তিতাসকে ধরতে অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে মাংস বিক্রির এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।