মিরপুর মেট্রো ওয়ান সার্কেলে সহকারী হিসাব রক্ষক রিদওয়ান হোসেন সাগর-এর বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়ন পরীক্ষা, দালালচক্রের অর্থ লেনদেন, বেনামি সম্পদ ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮ সালে হেডকোয়ার্টারে যোগদানের পর থেকে রিদওয়ান হোসেন সাগর দীর্ঘ আট বছর ধরে মিরপুর মেট্রো ওয়ান সার্কেলে সংযুক্ত রয়েছেন* এবং এখানেই তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, আনুষ্ঠানিক পদ হিসাব সহকারী হলেও তিনি বর্তমানে **লাইসেন্স বোর্ড, জোড়া সহায়তা ও নবায়ন বোর্ড পরিচালনা** করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রিদওয়ান হোসেন সাগর নৌবাহিনী মাঠে নিজেই পরীক্ষা নেন , নিজেই ‘রোল প্রস্তুত করেন’, এমনকি ‘পাস–ফেল নির্ধারণ করেন’। অভিযোগকারীদের দাবি, দালালদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি যাদের কাছ থেকে টাকা নেন তাদের পাস দেন, আর যারা টাকা দেন না তাদের ফেল করিয়ে দেন। এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে তার নামে ও বেনামে সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আইন অনুযায়ী একজন সহকারী হিসাব রক্ষক কি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীরা জানান, পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত **ইন্সপেক্টর ও মোটরযান প্রদর্শক** উপস্থিত থাকলেও তারা পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন না; বরং রিদওয়ান সাগর মাঠে বসে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। এতে আইনি ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে জানা গেছে, তার আনুষ্ঠানিক পোস্টিং হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত মিরপুর মেট্রো ওয়ান সার্কেল** হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এখানেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ৫ আগস্টের পর তার হেডকোয়ার্টার সংযুক্তি কাটিয়ে মেট্রো ওয়ান সার্কেলে পোস্টিং দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, হেড অফিসে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তার বদলি আটকে রাখা হয়**, এবং বলা হয় যে তার বদলি অন্য কোথাও হওয়া সম্ভব নয়, কারণ হিসাব সহকারীদের সাধারণত হেড অফিস বা বিভাগীয় অফিসেই পোস্টিং থাকে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন হিসাব সহকারী কীভাবে লাইসেন্স বোর্ডের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে বছরের পর বছর থাকতে পারেন** এবং কার নির্দেশে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দালালচক্রের সহযোগিতায় এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে বিষয়টি অবগত করেছেন বলে জানা গেছে।
