জেনেভায় আইএলসি অধিবেশনে শ্রমমন্ত্রীর বক্তব্য: আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন (আইএলসি)-এর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এএসপিএজি) মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় বৈশ্বিক শ্রম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বাংলাদেশ এবারের ১১৪তম আইএলসি অধিবেশনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমমন্ত্রী।

সভায় তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বেকারত্ব, দক্ষতার ঘাটতি, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নতুন সুযোগ তৈরি করলেও কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তা ও দক্ষতার ঘাটতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে বাধা না দিয়ে শ্রমিকদের ডিজিটাল দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও আজীবন শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। কোনো দেশ এককভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ কারণে আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আইএলওকে আরও গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সভাপতিত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বক্তব্য দেন। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ৪৫টি দেশের শ্রমমন্ত্রী ও প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন।


ওআইসি লেবার সেন্টারের সঙ্গে বৈঠক

আইএলসি সম্মেলনের সাইডলাইনে ওআইসি লেবার সেন্টারের মহাপরিচালক আজার বায়রামভের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৈঠকে তিনি বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যারা গন্তব্য দেশ এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এসব শ্রমিকের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে ওআইসি লেবার সেন্টারের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমবাজারে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে ওআইসি লেবার সেন্টারের মহাপরিচালক আজার বায়রামভ বাংলাদেশকে সংস্থাটির শ্রম সংবিধিতে স্বাক্ষরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত তা অনুসমর্থনের আহ্বান জানান। তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষায় সংস্থার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।