নির্বাচন সামনে-নতুন জোট ঘোষণা আসছে ২৫ নভেম্বর: মজিবুর রহমান মঞ্জু

বাংলাদেশ এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি নতুন রাজনৈতিক জোট ঘোষণা করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা দল হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, তাদের নিয়ে এই জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবি পার্টির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ আরও কয়েকটি দল এই জোটে থাকবে।

আজ রোববার দুপুরে ফেনী শহরের একটি গণমিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী–২ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে জনসংযোগ শুরু করেছেন মজিবুর রহমান। এর অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

জোট গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণের সামনে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। জোট ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সঙ্গে জোটে যাইনি। বিএনপির বহু নেতা বছরের পর বছর সংগ্রাম করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। তাঁদের নমিনেশন পাওয়ার অধিকার আছে। তবে বিএনপি আমাদের জন্য সিট খালি রেখেছে—এ দাবি সত্য নয়। এসব প্রশ্নে আমরা বিব্রত হই। বিএনপি একটি পুরোনো দল, তারা তাদের মতো করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। আমরা নতুন দল হিসেবে আমাদের নিজের প্রস্তুতিতেই আছি।’

নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন আছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। এজন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আরও আন্তরিক ভূমিকা প্রয়োজন।

ফেনী–২ আসন থেকে নির্বাচিত হলে কী করবেন—এ বিষয়ে মজিবুর রহমান জানান, তিনি নিজের ঘাটলা বা বাড়িতে সালিস করবেন না, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না এবং বাজার বা স্কুল কমিটির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না। বরং সরকারি দপ্তরে সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্যোগ, কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সরকারি বরাদ্দের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চালাবেন।

ফেনীর উন্নয়নে তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেনীতে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সেনা ব্রিগেড স্থাপনের প্রচেষ্টা চালানো হবে।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর সবাই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করছে—এটি বড় অর্জন। এখন যে কেউ সরকারপ্রধানের কড়া সমালোচনা করতে পারছেন, যা কিছুদিন আগেও সম্ভব ছিল না। প্রধানমন্ত্রী পদে দুবারের বেশি কেউ থাকতে পারবেন না এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করার মতো সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আগামী ১০ বছরে দেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাবে।

শেখ হাসিনার বিচার কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। প্রয়োজনে তিনি বা তাঁর দল বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে আবেদন করতে পারেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক আহসানুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন, যুগ্ম সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম, মামুন আনসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত সাজু, কোষাধ্যক্ষ শাহীন সুলতানী, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হাবীব মিয়াজী, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক জাহানারা মনি এবং সহদপ্তর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ।