কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন তার বড় ভাই। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্যান্য উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের বহু মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান হাদির মন্ত্র ছিল—‘বল বীর, চির উন্নত মম শির’। তিনি আমাদের মাথা নত না করার মন্ত্র দিয়ে গেছেন। এই মন্ত্র আমাদের অন্তরের মধ্যেই থাকবে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদির ওপর হামলার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে দাবি জানান।

শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমান হাদির মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গোসলের জন্য মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। ভোর থেকেই হাদিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে হাসপাতাল ও জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
