বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতি: ছাত্রপ্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের নিন্দা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে এ ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ বিবৃতি আসে। বিবৃতিতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নানা মবপ্রবণতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সব সীমা ছাড়িয়ে বারবার ঘোষণা করেন, লীগপন্থী শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে ঢুকলে “কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে।”

অন্যদিকে, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ঘোষণা করেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রকার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষক ক্লাসে আসতে পারবে না।” তিনি রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদেরও উসকানি দেন। এসব নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’

শিক্ষক নেটওয়ার্কের মতে, রাকসু নেতাদের এ আচরণ সরাসরি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপর হামলা এবং এর প্রভাব সারাদেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পড়েছে।

এছাড়া, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওসমান হাদির মৃত্যুর পর হতাশাজনক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অথচ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো পত্রিকা এবং ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উদীচী ও ছায়ানটকে তছনছ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জনপরিসরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত একজন শিবির নেতাও সরাসরি হামলায় যুক্ত ছিলেন। দেখা যাচ্ছে, ১৮ ডিসেম্বরের অগ্নিসন্ত্রাসের পেছনে রাকসু ও জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ছাত্রশিবিরের নেতারাও উসকানিদাতা হিসেবে কাজ করেছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধি এবং একটি বিশেষ দলের সদস্যদের উৎপাত ও এখতিয়ারবহির্ভূত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। জামায়াতে ইসলামীকেও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতাদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের মতো জড়িতদের ‘ব্যক্তিগত’ মতামত বলে দায়মুক্তি দেওয়ার সংস্কৃতি পরিহারেরও আহ্বান জানানো হয়।