স্থানীয় নেতার বক্তব্য নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কারণ দর্শানো নোটিস

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে এক নেতা কর্তৃক থানার ওসিকে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে। নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দাবি করা হয়েছে।

শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ পোস্ট করা হয়। তাতে ওই নেতার বক্তব্যকে সংগঠনের আদর্শবিরোধী ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী আখ্যা দিয়ে তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। সেদিন দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় আটক ‘জুলাইযোদ্ধা’ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান নয়নকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে থানার ওসি মো. আবুল কালামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান। উত্তপ্ত আলাপের এক পর্যায়ে মাহদী হাসান ওসিকে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে আজকে এই প্রশাসন বসেছে। হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১৭ জন শহীদ হয়েছেন। যে কারণে আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।”

পরবর্তীতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে মাহদী হাসানকে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে উত্তপ্তভাবে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটির মন্তব্যস্তলে অনেকেই মাহদীর গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন।

ভিডিওটি ব্যাপক প্রচার পেলে মাহদী হাসান আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ‘মুখ ফসকে, অসাবধানতা বশত’ ওই মন্তব্য করেছেন। তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়। নোটিসে উল্লেখ করা হয়, ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মাহদী হাসানের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। বক্তব্যগুলো সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জনপরিসরে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করে। এ অবস্থায় মাহদী হাসানকে তার বক্তব্য প্রদানের কারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর দপ্তরের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাহদী হাসান তার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “এনামুল হাসান নয়ন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় দল থেকে সরে এসে আমাদের সঙ্গে সম্মুখ সারিতে লড়াই করেছেন। শুক্রবার ভোরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। শুরুতে তারা থানার ওসিকে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বললেও তিনি গুরুত্ব দেননি। পরবর্তীতে আমরা সেখানে গেলে সহকারী পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এনামুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমার মুখ ফসকে একটি স্লিপ হয়েছে। এতে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের বক্তব্য অনুযায়ী, এনামুল শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ভোরে তাকে আটক করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী নেতারা জুলাই আন্দোলনে এনামুলের সম্পৃক্ত থাকার ছবি ও ভিডিও দেখালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।