চট্টগ্রামের রাউজানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও খুনোখুনির ঘটনা রাজনৈতিক বিভেদ বা আধিপত্য বিস্তারের জন্য হয়নি; বরং চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালু ও মাটি ব্যবসা এবং ইটভাটায় চাঁদাবাজির বিরোধে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “রাউজানের যে সহিংসতা, এটা কিন্তু রাজনৈতিক বিভেদের কারণে হয়নি, বা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য হয়নি। সম্পূর্ণভাবে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, বালু ও মাটির ব্যবসা, ব্রিকফিল্ডে চাঁদাবাজি— এসব পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছে।”
গোলাম আকবর খোন্দকার দাবি করেন, “এখানে এমন নয় যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দুইটা পক্ষ, এক পক্ষ আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে আরেক পক্ষকে হামলা করেছে। সেটা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নয়, রাউজানের আপামর জনগণই স্বীকার করে এটা। কোনো রাজনৈতিক আধিপত্যের কারণে খুনাখুনি একেবারেই হয়নি।”
তিনি বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের পরে প্রায় ১৮ জন মানুষ হত্যা হয়েছে। এরমধ্যে ১৩ থেকে ১৪ জন খুন হয়েছে শুধু চাঁদাবাজি, বালুর ব্যবসা, টাকার ভাগাভাগির কারণে। অন্য কোনো কারণে হয়নি। এটা নিশ্চিত, এ ব্যাপারে কোনো ভুল নাই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটা দলের কোনো ব্যাপার না। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, যারা হত্যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা কেউ দলের হতে পারে না। তারা নিজেদের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করে।”
শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল এবং দুজনই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন বাছাই শেষে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে গোলাম আকবর খোন্দকার নির্বাচনী সহিংসতার শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, “নির্বাচনে সবাই জয় পেতে চায়। সুতরাং নির্বাচনে সহিংসতার সম্ভাবনা থাকতে পারে। প্রশাসনকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সঠিক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে সেই শঙ্কা কম থাকবে বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “কে মাঠ ছাড়বে, কে মাঠ ছাড়বে না, এটা ব্যাপার না। আমি আমার দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিচল থাকব। এটাই আমার সিদ্ধান্ত।” তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, “ধানের শীষের বাইরে যাবার কোনো কথাই নাই। সারা বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষের জন্য অপেক্ষা করছে।”
এই সময় গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান তারেক আকবর খোন্দকারও উপস্থিত ছিলেন।
