জকসু নির্বাচনে হাতে-গণনা ও মেশিনে পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফলাফল গণনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন নতুন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে।

নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা কাকলি মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিক বলেন, একটি বিভাগের ভোট প্রথমে হাতে গণনা করা হবে। এরপর সেই ফলাফলের সঙ্গে মিল রেখে পুনরায় মেশিনের মাধ্যমে পুরো ভোট গণনা করা হবে। এ সিদ্ধান্তটি নির্বাচন কমিশন ও ভিপি-জিএস প্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর গৃহীত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জুলফিকার মাহমুদ বিস্তারিত জানান, প্রথমে প্রায় ৩০০ ভোট পড়েছে এমন একটি বিভাগের ফলাফল হাতে গণনা করে মেশিনের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তীতে সব ভোট মেশিনের মাধ্যমেই গণনা সম্পন্ন করা হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়। নির্ধারিত সময় শেষে লাইনে থাকা ভোটারদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে এবারের নির্বাচনে। একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ।

ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের নিয়ন্ত্রণকক্ষে আনা হয়। সন্ধ্যায় ওএমআর মেশিনে গণনা শুরু হলে ফলাফলে গরমিল ধরা পড়ে, যার ফলে গণনা স্থগিত করতে হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই কমিশন এই নতুন সিদ্ধান্ত নেয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং ছাত্রী হল সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ৩৪টি পদের জন্য প্রার্থী ছিলেন ১৯০ জন। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।