আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সক্ষম, পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনমুখী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এই গুরুদায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করে জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সর্বোচ্চ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন পরিচালনায় মাঠপর্যায়ে সকল সিদ্ধান্ত আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সামান্য কোনো বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই সংবেদনশীল সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে—এ বিষয়ে সরকার আশাবাদী।”
গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটদান হবে তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে মানুষ যেমন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে তার মতামত ব্যক্ত করবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাই এই নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।”
মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচনে তরুণদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেক নাগরিক দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ অবস্থায় সকল ভোটারের জন্য ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন এবং যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় যুগোপযোগী করে গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”
তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেদারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।
