ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার দুপুরে নিজের ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেইসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লিখেছেন, “আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।”
তবে তিনি এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কিনা, সে বিষয়টি ফেইসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেননি।
নিজের দায়িত্ব ও কাজের বিষয়ে পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, “আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড। সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল, মানি ব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।”
ফেইসবুক পোস্টে তিনি জানান, নারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ এসেছে। সর্বমিত্র চাকমার ভাষায়, “ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।”
শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাটি প্রসঙ্গে ডাকসুর এই কার্যনির্বাহী সদস্য লেখেন, “সময়টা ছিল গতমাসে। সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়। আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে, এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, “আমার ভাবনা-চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই।”
পোস্টের শেষাংশে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, “এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়, নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।”
