সব দোষ আমার ওপর চাপানো হচ্ছে :  মির্জা আব্বাস 

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, তার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় তাকে জড়িয়ে যা বলা হচ্ছে, তাতে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতে, সব ঘটনার দোষই তার ওপর চাপানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর মালিবাগ-গুলবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা আব্বাস। তার এই মন্তব্য আসে একই দিন সকালে হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এনসিপি নেতা পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগের পর। ওই ঘটনায় পাটওয়ারী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি মির্জা আব্বাসকে দায়ী করেছিলেন।

শান্তিনগরের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিছি, এটিও আমার দোষ। এটি নাকি আমি হুমকি দিয়েছি। আমি তাদের কথায় ভীত। কোথায় কী হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তরুণদের দলটি আমার সঙ্গে ‘ঝামেলা বাঁধানোর চেষ্টা করছে’। আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহর জুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। যে যত কথাই বলুক আমি তাদের ফাঁদে পা দেব না।”

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সরাসরি উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছ আর কী করবে বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো। নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ’৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি।”

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, তখন হাত উঁচিয়ে এ এলাকার মানুষ সমর্থন দিতেন। পুলিশের হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য প্রার্থী কি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? আপনাদের কাজ শুধু কুৎসা রটানো।”

সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস তার এলাকায় কাজের দাবি করে বলেন, “আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু আমি যা পারব না তা কখনও আশ্বাস দেইনি। মিথ্যা আশ্বাস আমি দেই না। আমি ফেরেস্তা না। তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।”

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীর সমালোচনা করে বলেন, “কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কি? আমি যখন জেলে গিয়েছিলাম তখনও আমার বাসায় বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকার মানুষ আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছে। আজকে লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন! এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছেন? আবার বলেন আমার এলাকা!”

এক পর্যায়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “একজন বলছে চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে চাঁদাবাজিতো আপনারা করছেন। চাঁদাবাজি তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না! যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।”

তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ। দেশে এখন থেকেই অশান্তি পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।”

মঙ্গলবার বিকেলে মির্জা আব্বাস শাহজাহানপুর মালিবাগ ১ম লেন থেকে মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। সন্ধ্যায় শাহজাহানপুর ঝিল মসজিদ এলাকায় এবং রাতে ফকিরাপুল, আরামবাগ পানির ট্যাংকি গলিতে তার গণসংযোগের কর্মসূচি ছিল।

উল্লেখ্য, একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে একটি পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তার ওপর শারীরিক আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। পরে সংবাদ সম্মেলনে পাটওয়ারী বলেন, “হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে মির্জা আব্বাসের বাহিনী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তারেক রহমানের কাছে মির্জা আব্বাসের বহিষ্কারের দাবি জানাই।”

পাটওয়ারী আরও বলেন, “এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে, দলে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেবেন, নাকি তাদের বহিষ্কার করবেন। আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে হামলার বিচার দিলাম।”

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা গণঅভ্যুত্থানে হাসিনাকে হটিয়েছি, আর মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারব না? এসব ভয়ভীতি দিয়ে আমাদের আটকানো যাবে? এমনটি ভাবলে ভুল হবে।”